কিছুক্ষন আগে যে দুঃস্বপ্নটা দেখলাম

বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১০

অনেক স্বপ্নেরই আগা, মাথা কিচ্ছু থাকেনা। এক জায়গার সাথে আরেক জায়গাকে মিশিয়ে ফ্যালে। এই স্বপ্নটাও অনেকটা সেরকম। বিজন আর আল-আমীন আমার আইইউটির ক্লাশমেট আর স্বপ্নের ঘটনা ঘটেছে আমাদের গ্রামে মানে আইইউটি থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে। সাধারণত তাদের সেখানে উপস্থিত থাকার কোন সম্ভাবনা নাই। কিন্তু স্বপ্নে তারা সরাসরি উপস্থিত সেখানে। যাহোক, মূল ঘটনায় আসি।

আমাদের গ্রামে একটা বেসরকারী প্রাইমারী স্কুল আছে। সেখানে কোন একটা রাজনৈতিক দলের সমাবেশ আহ্বান করা হয়। দূর্ভাগ্যবশত আমার সেটা মনে ছিলনা। ঘুম থেকে উঠার পরই (স্বপ্নে) আম্মু বললো একটু দামপুরা যাব, আমার সাথে চল। বের হলাম। কোথা থেকে যেন বিজন আর আল-আমীনও সেখানে। সেখানে একটা পিটিআইয়ের সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি (বাস্তবে সেখানে কোন পিটিআই নেই) । সেখানে দাঁড়িয়ে আমি আর আম্মু স্মৃতিচারণ করছি।


যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন আমি আর আম্মু এসেছিলাম এখানে ( বাস্তবেও সম্ভবত এরকম হয়েছিল একবার, তবে পিটিআই টা আমাদের গ্রামে না নানাবাড়ির পাশে ছিল )। তখনকার অনেক স্মৃতি নিয়ে কথা বলছি । নষ্টালজিক হয়ে পিটিআইইয়ের ভেতরে গেলাম। ভেতরে একটা বানরেরর মতো আছে। সে মানুষের হাত দ্যাখে। সেজন্য ২ টাকা করে দিতে হয়। অর্থাৎ বানরের অছিলায় ভেতরে ঢুকলেই ২ টাকা লাগে।

বানরকে হাত দেখালাম। তারপর বানর কি জানি বললো ভুলে গেছি, তবে আমি যে এগুলা বিশ্বাস করিনা সেটা বানর বাবাজীও বুঝতে পেরেছে। বের হয়ে আসলাম। বাইরে এসে দেখি বিজন ঝগড়া করছে ভেতরে ঢুকলে টাকা কেন লাগবে এটা নিয়ে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে হুমকি দেওয়া-দেওয়ি। আমা থামাতে গেলাম। কিন্তু কেউ বোঝেনা। এক পর্যায়ে মারামারির মতো শুরু হলো। সবাই মিলে বিজনের সাথে ধস্তাধস্তি করছে।

আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। আম্মুকে বললাম আমি যাই? আম্মু যেতে দিলনা। আল-আমীন ওকে রক্ষা করতে গেল। কিন্তু এবার সবকিছু তার উপর পড়লো। বিজন পালিয়ে গেল। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। বেচারা আল-আমীন বিজনকে বাঁচাতে যেয়ে নিজে বিপদে পড়লো, আমার কিছু একটা করা দরকার। এদিকে আম্মু কোনমতেই যেতে দিচ্ছে না। অনিচ্ছা সত্বেও জোর করে আমাকে অন্যদিকে নিয়ে চলে গেল।

ততক্ষনে চারদিকে সাড়া পড়ে গেছে। চারদিকে যেন কেমন অন্যরকম একটা রব। মনে হচ্ছে ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। এরকম মুহূর্তে বসে থাকা যায়না। চারদিকে কেমন জানি একরকমের আতঙ্ক। বুঝতে পারছি এলাকার পরিস্থিতি ভালনা। আম্মু নিজে তার এক স্টুডেন্টদের বাসায় চলে গেল আর আমাকে বললো তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যা।

আমি প্রাণপনে দৌড়ানোর চেষ্টা করলাম । কিন্তু যাব কোথায়? স্কুলের কাছে এসে দেখি হাজার হাজার পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে। বের হবার কোন রাস্তা নেই। পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আঁতকে উঠলাম আমি। ও মাই গড! এই সমাবেশে যারা আছে তাদের সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলবে তারা। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশে অংশ না নিয়েও আমি এদের দলে পড়ে গেছি…

এখন উপায়? মাথা কাজ করছে না। জীবন বাঁচাতে প্রাণপনে চিন্তা করলাম। মনে হলো এদের যদি কোনভাবে বোঝাতে পারি আমি সমাবেশে আসিনি, আমি সাধারণ একজন পথিক তাহলে হয়তো কোনভাবে বাঁচতে পারবো। দৌড়ে স্কুলের অফিসরুমে ঢুকে গেলাম। সেখানে তিনজন শিক্ষক বসে আছে। সবাই আমার পরিচিত। ভাবলাম আমিও কি নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দেব পুলিশদের কাছে? পরে ভাবলাম না। মিথ্যাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ভাবলাম পাশে রুবেলদের যে বাড়িটা আছে সেখানে যাই, তাদের পরিবারের সদস্য বলে নিজেকে পরিচয় দেব।

কিন্তু এটাতেও ভয় লাগলো। হঠাৎ দেখি এক পিচ্চি কিছু পোটলা হাতে নিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম, “পুলিশ কিছু বলেনি?” ও বললো নাহ। পোটলা দেখে পথচারীই ভেবেছে। ভাবলাম এই এলাকা থেকে যে কোন মূল্যে বের হওয়া দরকার। পিচ্চির কাছ থেকে একটা পোটলা নিলাম। আর ওকে বললাম “কেউ যদি কিছু জিজ্ঞেস করে তাহলে বলবা আমি তোমার ভাই, আর আমাদের বাড়িও তোমাদের পাড়াতে, ওকে? ” পিচ্চি বললো, “ঠিক আছে”। উল্লেখ্য পিচ্চিদের বাড়ি আমাদের বাড়ির ঠিক উল্টাদিকে।

বিসমিল্লাহ বলে পথচলা শুরু করলাম। রাস্তায় যে কজন পুলিশ পেলাম সবাইকে পথচারী পরিচয় দিয়ে পোটলা দেখালাম। পুলিশ কিছু বললো না। কিন্তু কিছুদূর যাবার পর বুঝলাম আমার বিপদ আরও বেড়েছে। যেদিকে যাচ্ছিলাম সেদিক থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণাতঙ্কে পালিয়ে আসছে এদিকে। সবার গায়ে কোন কাপড় নেই, খালি গা পলিথিন দিয়ে মুড়ানো এবং সারা শরীরে কাদায় ভর্তি।

যেদিক থেকে এসেছিলাম সেদিকেই দৌড়ানো শুরু করলাম। কিন্তু লাভ নাই। সেদিক থেকেও হাজার হাজার মানুষ এইদিকে দৌড়িয়ে আসছে। ডানে বামেও একই রকম অবস্থা। তারমানে আর কোন উপায় নাই। হঠাৎ নিজের ভেতর সাহস এলো। মরব যখন কাপুরুষের মতো না, এর প্রতিরোধ করেই মরি। ভাবলাম যারা আমার মতো তাদের নিয়ে প্রতিরোধ করি।

দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করি, তবে যদি আইন দিয়ে অন্যায় করানো হয় আমাদের উপর তখন তো আইন ভাঙ্গা ছাড়া উপায় থাকেনা। হঠাৎ অনেক কথা মনে পড়ে যায়। কেমন আছে আম্মু? কেমন আছে বিজন, আল-আমীন? তদের রেখে পালিয়ে এসে আমি কি অন্যায় করিনি? এখন কি করা যায়?

ঘুম ভেঙ্গে গেল এর ভেতরেই। দৌড়ে এসে কম্পিউটারে বসলাম। তাড়াতাড়ি স্বপ্নটা লিখে ফেলি, ভুলে যেতে পারি যে কোন সময়। তখন যেন আর স্বপ্নের মতো আক্ষেপ না করতে হয় :D

এরকম স্বপ্ন দেখার কারণ অনুসন্ধানঃ

ভাবলাম, এরকম স্বপ্ন কেন দেখলাম? অনেকক্ষন চিন্তা করলাম একা একা।
# ১। রাতে রুমমেট ইমরান বলেছিল কোন এক মহিলা ডাক্তারকে নাকি আমেরিকানরা ধরে নিয়ে গিয়ে অনেক অত্যাচার করছে, তার দুটো ছেলেকে মেরে ফেলেছে । খুব খারাপ লাগলো এটা শুনে, নিজেরই খুব লজ্জা হলো। এটা থেকে মুক্তি পাবার জন্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললাম, “আমাদের কি করার আছে এখানে?”। ইমরান বললো কিছুই করার নেই? যদি তোমার নিজের এরকম কিছু হয়? অন্তত দোয়া তো করতে পার তার জন্য। আবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললাম, “যার পাপ, তাকেই খাবে”।
# ২। রাতে ফোনে কথা বলছিলাম এক ফ্রেন্ডের সাথে। সে কাল তার রুমে একা ছিল। বারবার বলছিল তার অনেক ভয় লাগছে।

সম্ভবত এই দুটা ঘটনা রিমিক্স হয়ে স্বপ্নটা দেখেছি।

 
রনি পারভেজের রোজনামচা - by Templates para novo blogger - Tested by Blogger Styles | Airline Credit Cards